আজ || মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২
শিরোনাম :
  তালায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলামের মতবিনিময়       শ্যামনগরে উত্তরণের বিশ্ব শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপন       তালায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত       ‘অভিযোগ পেলেই কেবল ব্যবস্থা’       তালায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ       তালায় সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন       তালায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস       তালায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির       সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের শোক       তালায় কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত    
 


‘হাওয়া’ সিনেমা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলাকারীকে শোকজ

‘হাওয়া’ সিনেমার পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলাকারী কর্মকর্তাকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে চলচ্চিত্র অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মোরশেদুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, তারিক আনাম খান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, এস এ হক অলীক, আফসানা মিমি, চঞ্চল চৌধুরী, মেজবাউর রহমান সুমন, সৈয়দ গাউসুল আলম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সিনেমা আবার দর্শকদের হলে ফিরিয়ে এনেছে। সেই সিনেমাগুলোর একটি ‘হাওয়া’। এর পরিচালকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। আমি বিদেশে ছিলাম, জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি, সেই মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কর্মকর্তা মামলা করেছেন, তাকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইনের যদি ব্যত্যয় হয়ে থাকে তাহলে পরিচালককে নোটিশ করতে পারতেন। সরাসরি কোর্টে গিয়ে মামলা করা সমীচীন হয়নি বলে আমি মনে করি।

‘শনিবারের বিকেল’ সিনেমাটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় হলি আর্টিজানে যে হামলা হয়েছিল, সেই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে দু’জন পুলিশ অফিসার মারা গেছেন। আমাদের পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জঙ্গিদের দমন করেছিল। সেন্সর বোর্ডের অভিমত, সেই বিষয়গুলো সিনেমাটিতে আসেনি। সেজন্য এসব দৃশ্য সংযোজন করতে বলা হয়েছে। কিছুটা করা হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয়। তারা আপিল করেছিলেন। আপিল কর্তৃপক্ষ সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজককে জানিয়ে দেবে কী কী সংযোজন করা প্রয়োজন। সেগুলো সংযোজন হলে আমি মনে করি এই সিনেমা রিলিজ করার ক্ষেত্রে যে সমস্যা আছে, তা কেটে যাবে।

চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক প্রবাহ, ওটিটি প্লাটফর্ম পরিচালনা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদানসহ সংশ্লিষ্ট নানা প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক, শিল্পী ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, ওটিটি একটি ক্রমবর্ধমান আধুনিক প্লাটফর্ম এবং বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতা। আমরা এটিকে প্রমোট করতে চাই। ওটিটি প্লাটফর্ম এত বিস্তৃত, এতো ব্যাপকভাবে ক্রমবর্ধমান যে, এটিকে সেন্সর করা সম্ভব নয়। সেজন্য এটি একটি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

তিনি বলেন, যারা ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করে, তাদের দিয়েই মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে দিয়েছে। সেই কমিটি কাজ করছে এবং সেই কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করে নীতিমালা চূড়ান্ত করবে। আমরা এমন একটি নীতিমালা করতে চাই, যে নীতিমালা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং একইসঙ্গে আমাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করবে।

অনুদান নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, সিনেমা শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে। আমরা বাণিজ্যিক ছবিতে অনুদান দিয়েছি, কারণ সিনেমা বানিয়ে আসলে পয়সা উঠত না, এখন উঠবে। এখন আবার দর্শক ফিরে আসছে, সিনেমা হল বাড়ছে। পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে। একইসঙ্গে আর্টফিল্মে অনুদান দেওয়া প্রয়োজন। আর্টফিল্ম ব্যবসা করতে পারে না, কিন্তু আর্টফিল্মের প্রয়োজন আছে।

সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারে সরকারের হাজার কোটি টাকা ঋণ তহবিলের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র ইতোমধ্যে বিশ্বে কিছুটা জায়গা করে নিয়েছে। আমাদের অনেক ছবি এখন আমেরিকা-ইউরোপে চলে।

সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী হাছান বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতারা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দেশকে অপসংস্কৃতি, তরুণদের বিপথগামিতা, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি থেকে রক্ষার জন্য আসলে দেশে একটি সংস্কৃতি সুনামি দরকার বলে আমি মনে করি। সেটি যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমরা আমাদের তরুণকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব।


Top