শরমের কারনে দামের গরমটাও একটু বেশি!

রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ২১

সরকারের পক্ষ থেকে বহু বছর থেকে চলছে নানা কর্ম পরিকল্পনা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা ভাবে প্রচার প্রচারণার মধ্যে দিয়ে নিয়ন্ত্রণের আহবান জানানো হচ্ছে বহুকাল আগ থেকে।

হ্যাঁ বলছি জন্ম নিয়ন্ত্রণের কথা। দুটির বেশি সন্তান নয়,একটি হলে ভালো হয়, এরুপ স্লোগান নিয়ে কতই না প্রচার-প্রচারনা। কিন্তু জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে প্রধান যে অন্তরায়,সেটাই রয়ে যাচ্ছে সবার অগোচরে।

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে বেড়েছে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মূল্য। যেহেতু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এই বিষয়টির সাথে জড়িয়ে রয়েছে চরম লাজুকতা; তাই হয়তো বলা যায় শরমের কারনে দামের গরমটাও একটু বেশি!

মজার বিষয় হলো হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের বেধে দেয়া দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল থেকে শুরু করে কনডম কিংবা ইমারজেন্সি পিল এর মূল্য শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম। ৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ফেমিকন এখন ৩৫ টাকা,আর ৪ আনা বা ৮ আনা দরে পিচ প্রতি বিক্রি হওয়া কনডম এখন কোম্পানি ভেদে ৮ থেকে ১০ টাকা। লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলা পন্য সামগ্রি কি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে আছে? নাকি জন্ম নিয়ন্ত্রণ শুধু ধনী জনগোষ্ঠীর জন্য এমন প্রশ্ন এখন সময়ের।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সেক্সুয়াল বিষয়টি নববধূর মত অবস্থায় থাকার কারনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিক্রিয়কারী কোম্পানি থেকে ঔষধের দোকানী রাগ ঢাক না করে, চুটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

বিষয়টি যেহুতু সেক্সুয়াল তাই লজ্জায় দাম নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না এমনই গোলকধাঁধার খেলায় কবলে পড়ে আছি আমরা। আবার যদি ইমারজেন্সি পিল এর কথা বলি তাহলে চক্ষু কপালে উঠতে সময় ক্ষেপণ হবে বলে বোধ করিনা।

জিসকা ফার্মাসিটিক্যালে “পিউলি” নামের একটি ইমারজেন্সি পিলের মূল্য ১৯৫ টাকা, নোভেস্থা কোম্পানির “সেট ফ্রি” নামের ইমারজেন্সি পিলের মূল্য ৬৫ টাকা আর এসএমসির “নো রিস্ক” ইমারজেন্সি পিলের মূল্য ৬০ টাকা। এতো গেল ইমারজেন্সি টাইমের সাতকাহন, এবার আসা যাক সাধারণ সময়ে ব্যবহারিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বিষয়ে, সারা মাস জুড়ে ব্যবহারীত জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজার মূল্য বাজার ঘুরে দেখা গেল মারভেলন পিল ১০৫ টাকা, ওভস্ট্যাট পিল ৭০ টাকা,মিনিকন পিল ৪০ টাকা, লাইনেক্স পিল ১৩০ টাকা,নরেট টুয়েন্টি এইট পিল ২৩ টাকা,ফেমিপিল পিল ১৮ টাকা পাতা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক্ষেত্রে দামী পিল গুলো নাকি শরীরের সাথে খুব ভালো এডজাস্ট হয় বলে বিক্রেতাদের বক্তব্য প্রচলিত আছে। এতক্ষণতো নারীদের ব্যবহারীত জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মূল্য নিয়ে আলোচনা চলছিল এবার আসি পুরুষ কর্তৃক ব্যবহারীত জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অর্থ্যাৎ কনডম নিয়ে, এখানে বাজার মূল্য প্রতি প্যাকেট(১ প্যাকেটে ৩ টা) সেনসেশন সাধারণ ২৫ টাকা,সেনসেশন ফ্লেবার মিক্স ৩০টাকা,প্যানথার ১৫ টাকা,হিরো ১০টাকা,ইউ এন্ড মি ৪০ টাকা,এছাড়া কিছু নামহীন অজ্ঞাতনামা বিদেশি কনডম বাজারে দেখা মেলে তার মূল্য অনেক বেশি।

এক্ষেত্রে রয়েছে আরেক নাটকীয়তা বিবাহিত পুরুষ বা ইয়াং ক্রেতাদের কাছে কনডম বিক্রি নিয়ে বেশিরভাগ ঔষধের দোকানীরা একটু বেশি দাম নিয়ে থাকেন বলেও জানা গেছে, এমন ঘটনার মূল কারনতো পূর্বেই বলেছি ” সরমের কারনে দামের গরমটাও একটু বেশি “।

অতি সম্প্রতি আবার শুরু হয়ে নতুন নাটকীয়তা নারীদের জরুরী সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে চলছে নতুন নাটকীয়তা একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পারলাম যে স্যানিটারী ন্যাপকিনের মূল্য কয়েক দফা বাড়ানোর পাশাপাশি নকল স্যানিটারী ন্যাপকিনে ভরে গেছে বাজার।

যবনিকায় আপনাকে বলছি, হ্যাঁ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালনকারী সরকার বাহাদুরের নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিদের বলছি- জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মূল্য এখন নিয়ন্ত্রণহীন, আপনারা একটু নজর দিন, বিভিন্ন কোম্পানির সাথে যারা করে আছেন তারা আতাত না করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর উৎপাদনে বাজার উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা নিন। বছর বছর “দুটি বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো হয়”এসব শ্লোগ গেয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করার চেয়ে এই খাতের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়,সেখানে এই টাকা গুলো বিনিয়োগ করুন, যে কোন মূল্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। আর শরমের কারনে দামের গরমটাও একটু বেশি! যাতে না হয় সেদিকে নজর দিয়ে ঔষধের দোকানে দোকানে মূল্য তালিকা প্রকাশ্য লটকানোর নির্দেশন দিন।

# লেখকঃ সাংবাদিক ও কলাম লেখক, সভাপতি-আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *