পাটকেলঘাটার নব্য মাদক সম্রাট তুহিনের বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তার

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) সংবাদাতা ::

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে ২০২০, ১৭:২১
  • ২০৮

পাটকেলঘাটার নব্য মাদক সম্রাট তৌহিদুজ্জামান ওরফে তুহিন একের পর এক বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। ডজন খানেক উঠতি বয়সে যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলেছে হট লাইন মাদক সিন্ডিকেট। থানা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক সিন্ডিকেট নিযুক্ত থাকায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মরণ নেশা ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ-গাজা সহ নেশা জাতীয় দ্রব্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, থানার রাঢ়ীপাড়া গ্রামের লিয়াওকত সরদারের পুত্র নব্য মাদক সম্রাট তুহিন মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্য। মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করায় কেউ এদের ব্যাপারে মুখ খুলতে চায় না। পাটকেলঘাটার যুবলীগ নেতা আশরাফুলকে ২০১৩ সালের তুহিনের নেতৃত্বে রাঢ়ীপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পার্শ্বে রাতে ডেকে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে তার সশস্ত্রবাহিনী। হত্যার পরে কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে গড়ে তুলে মাদক সিন্ডিকেট। কিছু দিন হাজত বাসের পর জামিনে এসে আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে কথিত এই তুহিন।

কয়েক মাস পূর্বে বাহাদুরপুর নতুন বাজারে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ইট দিয়ে মাথা থেতলে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় জুতা ব্যবসায়ী অভয়তলা গ্রামের রেজাউল শেখকে। অদৃশ্য কারণে স্থানীয় রাজনীতিবীদদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই তুহিন হত্যার সম্মুখপানে থাকলেও জাল ছিড়ে বেরিয়ে যায়। গত শুক্রবার ৮ মে বাহাদুরপুর বাজারে স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির নির্দেশে মাদক সম্রাট তুহিনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেধড়ক মারপিট করে আপন দুই সহোদর বগা শাহাকারিয়া মাদ্রাসার মাষ্টার বকুল ও ইসলামকাটী টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষক ফেরদৌস হোসেনকে। অসহায় শ্রেণির মানুষ হওয়ায় সেদিনও প্রকাশ্য দিবালোকের ঘটনা সকলের অগোচরে চলে যায়। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের ঘটনার পুনঃবৃৃত্তি ঘটলেও  জানেনা কেউই। একের পর এক ঘের দখল, চাঁদাবাজী, চুরি, মাদক সেবন ও সরবরাহের মত ঘটনার জন্ম দিয়েছে ইতোমধ্যে।

এই সিন্ডিকেটে কাজ করে কুমিরা গ্রামের মৃত হান্নান নায়েবের পুত্র শুভ, রাড়ীপাড়ার মশিয়ার শেখের পুত্র গাজা মামলায় জেল খাটা রানা, নোয়াকাটী গ্রামের হাসানুর রহমান, আরিকুল ইসলাম, রাঢ়ীপাড়ার জালাল সরদারের পুত্র এক সময়ের ক্রস ফায়ারের আসামী আলামিন, মৃত মুনসুর সরদারের পুত্র রফিকুল, কুমিরা বাদাম তলার এসেম সরদারের পুত্র দুর্ধর্ষ আরিজুল সহ একাধিক ব্যক্তি। এদের মাদক সরবরাহের বিভিন্ন পয়েন্টের মধ্যে থানার রাজেন্দ্রপুর গ্রাম, কুমিরা কদমতলা মোড়, যুগিপুকুরিয়া বিলের ভিতর, পেট্রোল পাম্পের পিছনে, মির্জাপুর বাজারের গলিতে, নোয়াকাটির চার রাস্তা মোড় সংলগ্ন গলিতে, মেল্লেক বাড়ি বাজারের নদীর ধারে, রাড়ীপাড়া প্রাইমারী স্কুলের নদীর ধারসহ একাধিক স্থানে।

কিছুদিন আগে পাটকেলঘাটা থানার সোর্স টাওয়ার পার্টির শরিফকে নিয়ে জন্ম দেয় অনভিপ্রেত ঘটনা। আগামী ঈদুল ফিতরকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে এই চি‎হ্নিত মাদক সিন্ডিকেট। এখনই যুব সমাজ ধ্বংসকারী মরন নেশা খোর ও সরবরাহকারীদের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভেস্তে যাবে সরকারের সকল পরিকল্পনা। তাই তদন্ত পূর্বক এই সকল মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ এ প্রতিবেদককে জানান, তুহিনসহ মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের স্ববিস্তারে নির্মূল করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের দেওয়া জিরো টলারের্ন্সে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

আরও পড়ুন

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু