পাইকগাছায় প্রথম ঈদ উদযাপন করলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

তৃপ্তি ওঞ্জন সেন পাইকগাছা :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

খুলনার পাইকগাছার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসনে বসবাসরত দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও তার সহধর্মীনি নুসরাত খালিদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহধর্মীনি খাদিজা ইকবাল। বুধবার সারাদেশের ন্যায় পাইকগাছাতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্র্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদকে ঘিরে প্রচলিত এ প্রবাদ সকলের ক্ষেত্রে খুশি এবং আনন্দের হয় না। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে টানা লকডাউনের ফলে ঈদের আনন্দ ম্লান হওয়ার উপক্রম হয় এলাকার দরিদ্র এবং শ্রমজীবী মানুষের। বিশেষ করে সম্প্রতি যে সব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মুজিববর্ষের ঘরে বসবাস করছেন ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে এমন আশায় ছিল না অনেক পরিবারের। তারা রঙিন ঘরে রঙিন স্বপ্ন বুনলেও টানা লকডাউনে ঠিকমত কাজ-কর্ম করতে না পারায় ঈদকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন ছিল অনেকটাই ধুসর। বেঁচে থাকার জন্য দৈনন্দিন যে খাবার প্রয়োজন সেটি কিনবে নাকি ঈদের সামগ্রী কিনবে নাকি ছেলে মেয়েদের নতুন পোশাক কিনবে এনিয়ে চরম দুঃচিন্তায় ছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলো। ঈদের বাকী আছে আর মাত্র একটি দিন। ঠিক ঈদের পূর্বমুহূর্তে মঙ্গলবার দুপুরে আবাসনে বসবাসরত পরিবার গুলোর দুঃচিন্তার আকাশ থেকে ধুসর মেঘ যেন মুহূর্তের মধ্যে সরে গিয়ে রঙিন আকাশে রূপ নিল। একটি পরিবারের সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য যা যা প্রয়োজন ঠিকতার সবটুকু নিয়ে আবাসনে বসবাসরত দরিদ্র পরিবার গুলোর দুয়ারে উপস্থিত হলো উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টুর সহধর্মীনি খাদিজা ইকবাল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সহধর্মীনি নুসরাত খালিদ। প্রখর রোদের মধ্যে পিকআপ ভর্তি ঈদ সামগ্রী ও কোমলমতি শিশুদের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে হাজির হন উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর চরকপোতাক্ষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এখানে ৫০টি পরিবার বসবাস করে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রতিটি পরিবারের মাঝে তুলে দেন সেমাই, চিনি, দুধ, বাদাম, কিচমিচ, লবণ, মুড়ি সহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী। পরিবারের মাঝে যেমন তুলে দেন ঈদ সামগ্রী তেমনি পরিবারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা যাতে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এ জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের সকল শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন নতুন পোশাক। এভাবেই গোলাবাটি সহ অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্পে পৌছে দেওয়া হয় ঈদ সামগ্রী। এছাড়া ঈদের দিন হেতালবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের মাঝে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী পৌছে দেন কোরবানীর মাংস। রহিমপুর আবাসনে বসবাসরত শিশু মিম জানায়, পরিবারে কোন খায়ন ছিল না। নতুন পোশাক পরে ঈদ উদযাপন করতে পারবো এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ঈদের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে নতুন পোশাক পেয়ে মনটা ভরে গেল অনেক ভাললাগায়। গোলাবাটী আবাসনের বাসিন্দা মোমিন উদ্দীন জানান, টানা লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। আয়-রোজগার নেই বললেই চলে। সোমবার পর্যন্ত ঈদের কোন কেনা-কাটা করতে পারিনি। ভালভাবে ঈদ উদযাপন করবো এ আশা ছিল না। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয়ের সহধর্মীনি মঙ্গলবার দুপুরে ঈদ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয় আমাদের আবাসনে। এখানে বসবাসরত প্রতিটি বাড়ীতে পৌছে দেন ঈদ সামগ্রী। আমরা সবাই অনেক আনন্দের সাথে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে প্রথম ঈদ উদযাপন করেছি। এভাবেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ীতে বাড়ীতে ঈদ সামগ্রী, নতুন পোশাক ও কোরবানীর মাংস পৌছে দিয়ে আবাসনের দরিদ্র পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন উপজেলা চেয়ারম্যানের সহধর্মীনি খাদিজা ইকবাল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহধর্মীনি নুসরাত খালিদ। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করেছেন খাদিজা ইকবাল ও নুসরাত খালিদ। অনুরূপভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাদের কাছ থেকে পাওয়া ঈদ উপহারে রঙিন ঘরেই উদযাপিত হয় স্বপ্নের রঙিন ঈদ। দেশের প্রত্যেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যেন এমন মানবিক সহধর্মীনি হয় এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ##

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

আরও পড়ুন