দৈনিক নয়া দিগন্তের পাইকগাছা সংবাদদাতাকে ছেলেসহ হত্যার হুমকির ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপতৎপরতা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১

পাইকগাছায় সাংবাদিক পিতা-পুত্রকে জীবননাশের হুমকির ঘটনায় থানায় জিডি ও মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপতৎপরতা শুরু হয়েছে।

ঘটনার নায়ক কুদ্দুস শেখ নিজেকে নির্দোষ প্রমানে বুধবার পাইকগাছা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে করেছেন। যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক শেখ দীন মাহমুদ উপজেলার কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

এসময় দীন মাহমুদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, মূলত ঘটনার দিন শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি ও তার ছেলে শেখ নাদীর শাহ্ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত অনলাইন দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সংক্রান্তে হুমকির সম্মুখীন হন। এঘটনায় ঐ দিন তার ছেলে পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।

যার নং ৭৬২,তাং-১৩/০৮/২১ ইং। এ নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তসহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে সংশ্লিষ্ট কুদ্দুস শেখসহ অন্যান্যরা ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার শুরু করেছে। যার ধারাবাহিকতায় আয়োজিত সম্মেলনে কুদ্দুস দাবি করেন, যে তারা দীন মাহমুদের কাছে টাকা ও পৈত্রিক জমি পাবে যা ছেড়ে দিকে বলায় তার বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ ও ষড়যন্ত্র করছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ প্রসঙ্গে দীন মাহমুদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর মৌজার সিএস ৬০২ খতিয়ানের ৭১২ দাগ,এসএ ৯১২ খতিয়ানের ৭১২ দাগ যা হাল বিআরএস ৩০৩ খতিয়ানের ১২০০ দাগ,১৩৩ খতিয়ানের ১১৯৯ দাগ ও ৬৯৭ খতিয়ানের ১১৯৮ দাগের মধ্য হতে আমার শরীকদের কাছ থেকে কাশিমনগর গ্রামের আমার প্রতিবেশী বড় ভাই মৃত শেখ সোনা উল্লাহর ছেলে মৃত শেখ আফান উল্লাহ ৩৯৪৪/১৯৯২ দলিল মূলে ৯ শতক ও হাল ১২০০ দাগের মধ্য থেকে ৮ শতকসহ মোট ১৭ শতক জমি খরিদ করেন। পক্ষান্তরে আমার পৈত্রিক বাদে একই দাগ অর্থাৎ হাল ১১৯৮,১১৯৯ ও ১২০০ দাগের মধ্য হতে আমার পিতা মৃত শেখ আব্দুস সবুর ১১৬২৪/৮০ দলিল মূলে ৭ শতক, ৪৪৪২/৯৪ দলিলমূলে ২৭ শতক ও ৮৪ সালের ৮০৩৪ নং অপর দলিলে ২.৫০ শতক জমি খরিদ করে মূল পৈত্রিক সম্পত্তির পাশাপাশি ৩ দাগের মধ্যে পৃথক খন্ডে আলাদা আলাদাভাবে ভোগ দখলকার রয়েছি।

প্রসঙ্গত, মৃত আফান উল্লাহ ৩ দাগে জমি ক্রয় করলেও মূলত প্রথম থেকেই শুধুমাত্র বিআরএস ১২০০ দাগের সামনে থেকে (রাস্তার পাশে) দখলপূর্বক ভোগজাত করে আসছেন। ইতোপূর্বে তার ওয়ারেশরা অর্থাৎ সংবাদ সম্মেলনকারীরা খরিদা সম্পত্তির মধ্য থেকে পৃথক দলিলে ৯ শতাংশ জমি কাশিমনগর ইট ভাটা মালিক মৃত আতিয়ার রহমানের নিকট বিক্রি করেন। তিনিও ১২০০ দাগের সামনে থেকে দখলে রেখে সেখানে পাকা ইমারত নির্মাণ করেছেন।

পক্ষান্তরে আমার পিতা শেখ আব্দুস সবুর ১১৬২৪/৮০ ও ৪৪৪২/৯৪ দলিল মূলে খরিদা ৩৪ শতক জমি সিএস ও এসএ খতিয়ানের একটি মাত্র দাগ ও হাল বিআরএস জরিপে পৃথক তিনটি দাগে ১১,১১ ও ১২ শতক করে খরিদ করলেও আফান উল্লাহর দখলীয় ১২০০ দাগে মাত্র ৮ শতক দখল করছেন। অর্থাৎ আমার বসত বাড়ির ১১৯৮ দাগে যেহেতু আফান উল্লাহ ৩ শতক খরিদ করেছেন। সেহেতু আফান উল্লাহ ও আ: সবুর জীবদ্দশায় এওয়াজমূলে ঐসম্পত্তির ভোগজাত করায় সবুর (ওয়ারেশ হিসেবে আমি) আফান উল্লাহর দখলীয় দাগে ১১ শতকের স্থলে ৮ শতক জমি ভোগজাত করে আসছি। বর্তমানে আফান উল্লাহর ওয়ারেশরা ১২০০ দাগে ১৭ শতক জমি দখলে রেখে সর্বশেষ হুমকির ঘটনার পর থেকে সংবাদ সম্মেলনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন জায়গায় ১১৯৮ দাগের মধ্য থেকে ফের ৩ শতক জমি দাবি করছেন।

শুধু এখানেই শেষ নয়, মৃত আফান উল্লাহর খরিদা সম্পত্তির একাংশের ৩৯৪৪/১৯৯২ নং দলিলের দাতা আব্দুল জলিল ৯/৩/৭৮ সালে ১৮৫৭ নং দলিলে কাশিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ জোয়াদ্দারের ছেলে মৃত ওবায়দুর রহমান জোয়াদ্দারের কাছ থেকে খরিদ করেন। অথচ ঐ সম্পত্তি ওবায়দুর রহমান ও তার ভাই হাবিবুর রহমান জোয়াদ্দার গত ২৮/২/৭৮ ইং তারিখে ১৫৩৬ নং দলিলে আব্দুল জলিলের মাতা মৃত ছুরতজান বিবির কাছ থেকে ক্রয় করেন।

অর্থাৎ ৯ শতক জমি দু’ভাই খরিদ করে এক ভাই ওবায়দুর রহমান একা সেই ৯ শতক জমি জলিলের কাছে পরে জলিল আফান উল্লাহর কাছে বিক্রি করেন। এছাড়া আফান উল্লাহর অপর ৩৯৪৩/১৯৯২ নং দলিলের দাতা জাহেদ আলী তার ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় সাড়ে ৪ শতক জমির স্থলে একাই ৮ শতক জমি বিক্রি করেন। প্রসঙ্গত, জাহেদ আলীর বড় ভাই শেখ আছাদুল হক ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও ১ স্ত্রী রেখে পিতার আগে অর্থাৎ শেখ এজাহার আলীর আগে মৃত্যু বরণ করলে জাহেদ আলী মনে করেন,পিতার আগে ছেলে মারা গেলে তার ওযারেশরা দাদার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন এমন ভ্রান্ত ধারণায় তিনি দু’ভাইয়ের সম্পত্তি একাই বিক্রি করেন আফান উল্লাহর কাছে। বর্তমানে আফান উল্লাহর ওয়ারেশরা অন্যদের সাথে মিশে তাদের দখলীয় দাগের মধ্যে দীন মাহমুদের প্রাপ্য ও দখলীয় ৮ শতক জমি থেকে বসত-ঘরসহ উচ্ছেদ করতে ব্যাপক ষড়যন্ত্র করছে।

এসময় দীন মাহমুদ তার লিখিত বক্তব্যে আরো দাবি করেন যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আমার আকূতি, আমার পিতা-মাতা দু’জনই দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি তাদের একমাত্র ছেলে। দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের পিতা। তার মধ্যে ছোট ছেলে নাহীদ আহম্মেদ জন্ম থেকে শারীরিক ও মানষিক প্রতিবন্দী। পিতার রেখে যাওয়া স্বল্প জমি ও দোকান-পাঠ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম তার স্বল্প আয়ে কোন রকম বেঁচে রয়েছেন। জীবন চলার পথে কখনো না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি।

এসময় তিনি আরো বলেন, পিতা-মাতার রেখে যাওয়া অন্তত ৩০ টি দাগের পৈত্রিক সম্পত্তি যার মধ্যে পুরনো ভিটা-বাড়ি, পূর্ব পুরুষের কবরস্থানসহ প্রতিবেশী ও শরীকরা বিআরএস জরিপে অবৈধ রেকর্ড প্রস্তুত করে দখলে নিয়েছেন। এখনো ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ায় সন্তান সন্ততি নিয়ে বসত ঘরে চাপা পড়ার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান তারা। এরই মধ্যে প্রতি নিয়ত হুমকির মুখে তিনি ও ছেলে কপিলমুনি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র, দৈনিক জাগো প্রতিদিনের পাইকগাছা, খুলনা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র নির্বাহী সম্পাদক শেখ নাদীর শাহ্সহ পরিবারের সবাই মারাতœক ভীত সন্ত্রস্ত রয়েছেন। এসময় তিনি শুধুমাত্র সম্মানের সাথে নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

আরও পড়ুন