তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কোনটিতে নেই সঠিক তথ্য

গাজী জাহিদুর রহমান :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদকে (ইউপি) শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ সাধারণ সেবা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সকল প্রকারের সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিসের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৈরী করা হয়েছে ওয়েব সাইট।
কিন্তু সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্য ১২টি ওয়েব সাইটে গিয়ে কোন তথ্যই ঠিকমতো পাওয়া যায় না। যা কিছু তথ্য প্রথমে যুক্ত করা হয়েছিল সেসব তথ্যই এখনও রয়ে গেছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব সাইটে নতুন করে কোন তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। কোনটিতে চেয়ারম্যান বা পরিষদের সদস্যদের কোন তথ্যই নেই। নেই বর্তমান পরিষদের সদস্যদের তালিকা। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আবার কোনোটিতে এক ইউনিয়নের তথ্য এনে অন্য ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কর্তারা। এমনি এই সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে দেয়া হয়েছে ২ থেকে ৩টি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২ জন করে নিয়ন্ত্রক। তবে সরকারিভাবে এদের কোন বেতন ভাতাদি দেয়া হয় না। এদেরকে কর্ম করে অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তারপরও এরা কেউ কর্ণপাত না করে বসে আছেন। এতে করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য জানার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকেই।
এছাড়া ত্রাণ ও পূণর্বাসন বিষয়ক, হতদরিদ্রর তালিকা, ভিজিএফ, মহিলা বিষয়ক, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি, সমাজসেবা বিষয়ক, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসীদের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, হাটবাজারের তালিকা, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর, এলজিএসপি, এলজিডি, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এনজিও, ব্যাংক, বীমা, মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, এতিমখানা, মাজার, আশ্রম, কবরস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো পূর্নাঙ্গ তথ্যই নেই।
ওয়েব সাইট ঘুরো দেখা যায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্য তালা সদর ইউনিয়নেরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে নেই চেয়ারম্যান-মেম্বরদের নামের তালিকা। ইউনিয়নগুলো হলো ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, কুমিরা, তেতুঁলিয়া, তালা সদর, ইসলামকাটি, মাগুরা, খলিষখালী, খেশরা, জালালপুর ও খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ।
উপজেলার ১নং ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বাতায়নের সাইটে দেখা যায়, সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী। সময় হলো ১০টা ১৫ মিনিটে। এই পোর্টালে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের নাম দেওয়া থাকলেও নেই কোন প্রকারের ছবি। নেই অগণিত তথ্যর আপডেট। ২নং নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের বাতায়নে দেখা গিয়েছে,শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের নাম দেয়া আছে। দেয়া নেই কোন মেম্বরদের নাম ছবি কিংবা মোবাইল নাম্বার। এই পোটালটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখে ১২টা ৩৩ মিনিটে।
৩নং সরুলিয়া ইউনিয়নের ওয়েব সাইটের চিত্রে দেখা যায়, পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানদের নাম ছবি মোবাইল নাম্বার সঠিকভাবে দেয়া নেই। বর্তমান চেয়ারম্যান পরিষদের কোন আপডেট সঠিক নই। নেই কোন প্রকারের সাধারণ সেবার তথ্য। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান ২/৩ পিরিয়ড চেয়ারম্যানী করলেও এসব কাজের বিষয়ে উদাসহীন।
৪নং কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ হালনাগাদের সময় ও তারিখ তো দেয়া নেই। নেই কোন চেয়ারম্যান মেম্বরদের ছবি, নাম, মোবাইল নাম্বার। সাধারণ সেবা তো থাকার কথা ছিলো কিনা জানেন না সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকারীরা। ৫নং তেতুঁলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নেই সর্বশেষ আপডেটের সময় তারিখ। কোন তথ্য পাওয়া যায়নি এই ওয়েব সাইটে।
উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানদের নামের তালিকার কোন ফোল্ডার নেই। নেই বর্তমান চেয়ারম্যানসহ মেম্বরদের তথ্যও। তথ্য হালনাগাদ তারিখ দেয়া আছে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই তারিলে। সময় হলো ১২ টা ৪০ মিনিট। ৭নং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদে দেখা যায় কোন প্রকারের তথ্য হালনাগাদের সময় তারিখ দেয়া নেই। নেই কোন বর্তমান ও পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানদের নাম মোবাইল নাম্বার। ৮নং মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ মাসের ২৫ তারিখ। সময় দেয়া আছে ১ টা ২৫ মিনিট। নেই কোন চেয়ারম্যান মেম্বরদের নামের তালিকা ও উপকারভোগীদের তথ্যও।
৯ নং খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের বাতায়ন সাইটে দেখা গিয়েছে সর্বশেষ কবে হালনাগাদ করা হয়েছে তার কোন সময় তারিখ সাল দেয়া নেই। পূর্ববর্তী মেম্বার ও বর্তমান মেম্বরদের নামের তালিকা মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়নি বাতায়নে। ১০নং খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ নামে একটি বাতায়ন নামমাত্র থাকলেও নেই সর্বশেষ আপডেটের সময়, তারিখ সাল। বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বর কারা তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া নেই। ১১নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদে ওয়েব সাইটে সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। সময় দেয়া আছে ১১টা ১১ মিনিটে। নেই কোন চেয়ারম্যান মেম্বরদের সঠিক তথ্য।
১২নং খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের বাতায়ন সাইটে সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৮ সালে ২ এপ্রিল তারিখে। সময় ৩ টা ২৫ মিনিট। সেটাও আবার প্রায় ৪ বছর আগের হালনাগাদ।
এসব তথ্য হালানাগাদ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের তালা উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ ইমারন হোসেন বলেন, আমরা কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। তবে এ বিষয় নিয়ে তারা কোন প্রকার কর্ণপাত করেননি। তাদের জন্য দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন