আজ || শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২
শিরোনাম :
  তালায় কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণ       সাতক্ষীরায় বাস্তচ্যুত ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত       সংসদ সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে ফুলের শুভেচ্ছা জানালো জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা শাখা       নিরামিষ সবজি রান্নার রেসিপি       তালায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে মানববন্ধন       বাস্তচ্যুত ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত       চুকনগরে ৪০ পরিবারের মাঝে গাছসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ       শ্যামনগর উপজেলা মডেল মসজিদের পাইলিং ঢালাইয়ের শুভ উদ্ধোধন       তালায় ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নারী নিহত       জেলা প্রশাসকের সাথে বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময়    
 


ডুমুরিয়ায় আগাম ধান কেটে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা

ডুমুরিয়া( খুলনা)সহ সারাদেশে যে কৃষকরা আগাম ধান কাটছেন তারা ভালো দাম পাচ্ছেন। জমি থেকে কেটে খলায় (ধান মাড়ানো ও শুকোনোর উঠান) এনে মেশিন দিয়ে ধান বের করে সেখান থেকেই প্রতি মণ ধান (ভেজা) ৮শত থেকে ৮শত৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন তারা। আর নতুন ধানই শুকনো হলে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

খুলনা সহ  উপজেলা বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য জানা গেছে। কৃষকরা বলছেন, ধানের এই দাম বজায় থাকলে তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন। করোনা ভাইরাসের চোখ রাঙানির মধ্যে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল, তাও কেটে যাচ্ছে। কৃষকরা এতে খুশি। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃমোছাদ্দেক হোসেন বলেন, চলতি বছরের ধানের মৌসুমে আল্লাহ ধানের বাম্পার ফলন দিয়েছেন। কৃষকরা এ মৌসুমে ধানের দাম ভাল পাচ্ছেন। কৃষকরা এ রকম ধানের দাম পেলে আগামী মৌসুমে ধানের চাষ বেশি হবে, এমনটা আমাকে অনেক কৃষক জানিয়েছেন।

তিনি আমাদের প্রতিবেদক শেখ মাহতাব হোসেন কে বলেন, জমি থেকে ধান কেটে খলায় এনে মেশিন দিয়ে ধান বের করে সেখান থেকেই প্রতি মণ ধান (ভেজা) ৮শত থেকে ৮শত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাড়ির ওপর থেকেই এখন নতুন ধান এই দামে বেচাকেনা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে উৎপাদন ভালো হলে ২৭-২৮ মণ ভেজা ধান হবে। এক মণ ধান শুকনো করলে ৩০ কেজি হয়। সে হিসাবে ভেজা ধান বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের মূতু্ কেরামত আলী গাজীর ছেলে আব্দুল গনি গাজী বলেন,  এখনো পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। যারা ব্রি-২৮ ধান করেছেন তারাই এখন ধান কাটছেন। এখনো অনেকে বাজারে ধান নেননি। কারণ করোনা ভাইরাসের কারনে বাজারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখনো জমে ওঠেনি। ধান বেচাকেনা যা হচ্ছে, তা বাড়ির ওপর থেকেই হচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের উখড়া গ্রামের বিশিষ্ট ধান ব্যাবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ব্রি -২৮ ধান প্রতি মণ ক্রয় করেছি ১হাজার টাকা দরে। ধান হিসেবে দাম বেশ ভালো পেয়েছে কৃষকরা। গত মৌসুমে (আমন) শুকনো ধানই বিক্রি করতে হয়েছিল ৬থেকে ৭শত টাকা মণ। সেদিক থেকে হিসাব করলে এবার ধানের দাম ভালো। তবে দাম এর চেয়ে নিচে নেমে গেলে কৃষকরা পোষাতে পারবেন না। এমনিতেই গতবার ধানের দাম না পেয়ে এবার অনেকেই ধানের আবাদ না করে জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন।

এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতি মণ ভেজা ধান ৮থেকে ৮শত ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেখানে কেবল ধানকাটা শুরু হচ্ছে। পুরো মৌসুম শুরু হতে এখনো ১০-১২ দিন লাগবে। যারা আগাম কিছু ধান লাগিয়েছেন, তারাই এখন ধান কাটছেন। অন্যদিকে উপজেলায় মোটা ধান প্রতি মণ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে খুলনা জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক উদ্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন মেটাতে ধান কেটে এনে খলা থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, ডুমুরিয়া সহ খুলনা জেলার  কৃষকরা খলা থেকে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা মণ দরে (ভেজা) ধান বিক্রি করছেন। এক মণ ধান শুকালে ৩০ কেজি হবে। সে হিসাবে কাচা ধানের এই দাম মন্দ নয়।


Top