জালালপুর ইউনিয়নে নৌকার অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ; পাল্টা অভিযোগ আনারস প্রতিকের

অনলাইন ডেস্কঃ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ৭১

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল ইসলাম মুক্তিসহ কর্মী ও সমর্থকরা। শুক্রবার জালালপুর ইউনিয়নের কানাইদিয়া মোল্যা পাড়া মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু।

শনিবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয় চা’ দোকানী ও নৌকার কর্মী শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটুর উপস্থিতিতে তারই কর্মী সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর অফিসটি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়।

সে আরো জানায়, নির্বাচনী অফিস সংলগ্ন তার নিজস্ব চা দোকানটিও ভেঙে দিয়েছে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা। নৌকা সমর্থিত অপর কর্মী ও স্থানীয় শেখ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন সুলতানা জানান, “শুক্রবার রাতে ২০/২৫ খানা মোটর সাইকেল যোগে চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু এখানে আসে এবং তার কর্মী সমর্থকদের ধর ধর বলে আস্ফালন করলে তারই উপস্থিতিতে তার কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। এক প্রশ্নের জবাবে পারভীন আরো জানান, সে সময় তার স্বামী শহিদুল ও ছেলে নৌকার অফিসে বসা ছিলেন। তিনি স্বামী ও ছেলেকে ভাত খাওয়ানোর জন্য সেখানে উপস্থিত হলে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে ঘটনা দেখেন এবং প্রতিবাদ করেন। অপর কর্মী মোস্তফা সরদার ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম একই অভিযোগ করেন।

তবে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলে, সরেজমিনে উপস্থিত রুস্তম মীরের স্ত্রী রেহানা বেগম জানান, জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটুর সুনাম নষ্ট করতে তারা পরিকল্পিত ভাবে এটি করেছে। আনারস প্রতীকের কোন কর্মী সমর্থক এটি করেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তিনি এ কথা বলেন, তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন, ওই সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কর্মী সমর্থকরাই তাদের অফিস ও দোকান নিজেরাই ভাংচুর করে।

এ বিষয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ও ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, “গত দু’দিন আগে নৌকার কর্মী সমর্থকরা আমার একাধিক কর্মীকে হাতুড়িপেটা করে মারাত্মক জখম করে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনাটি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন অফিসে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। উদ্ভুত ওই ঘটনায় প্রশাসন কঠোর হলে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। অফিস ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনাটি তারই বহিঃপ্রকাশ। নৌকা প্রতীকের কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাঙচুর করেছেন, এই দৃশ্য আমাদের কাছে ভিডিও ধারণ করা আছে বলে জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নৌকার কর্মী সমর্থকরা আমার এক নিরীহ কর্মীকে রাস্তায় একা পেয়ে তার গতিরোধ করে মারপিট সহ তার মোটরসাইকল ভাংচুর করে আটকে রাখে। পরবর্তীতে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এঘটনার খবর শুনে থানা পুলিশ এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন