ব্রেকিং নিউজঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯ নং মথুরেশপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হতে চান সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ মারুফ অবিলম্বে কপালিয়া বিলে টিআরএম সহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের উত্তরণের কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন তালায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় ‘আমরা বন্ধু’র উঠান বৈঠক তালার খেশরায় অসহায় পরিবারের বসতবাড়িসহ জমি দখল চেষ্টা তালায় সেনাসদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার তালায় ভানী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরণের বাস্তবায়নে তিনমাস মেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন পাইকগাছায় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীর প্রধান রুস্তম অস্ত্রসহ আটক মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ ব্যবহার করতে হবে, গেজেট প্রকাশ

মহিলাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা

কেশবপুরে দিনের বেলায় বিয়ের প্রস্তুতিকালে বাড়িতে হামলা, মারপিঠ ও লুট :

মেহেদী হাসান জাহিদ, কেশবপুর :

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৪
  • ২০৮

কেশবপুরে রামচন্দ্রপুর গ্রামে দিনের বেলায় বিয়ের প্রস্তুতিকালে বিয়ে বাড়িতে একদল দূর্বৃত্ত হামলা করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ মালামাল লুট করে এবং মহিলাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে পরিবারের সকলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে চলে যায়।

রবিবার সকালে সরেজমিন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফ আলী ওরফে পীর আলী গাজীর কন্যা রিনা খাতুন (৩৫) সাংবাদিকদের জানান, ২০০৪ সালে কেশবপুর উপজেলার পাঁচারই গ্রামের মকছেদ মোল্যার পুত্র নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। এরমধ্যে তাদের ঘরে খাদিজা খাতুন (১১) ও আব্দুর রহমান (৭) নামের ২টি সন্তান রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০১৬ সালে তার স্বামীর অকাল মৃত্যু হয়।

রিনা খাতুন তার সন্তানদের নিয়ে পিতার বাড়িতে অবস্থান করে। বর্তমানে সে একটি চাকুরী লাভের আশায় ঢাকায় যায়। ঢাকাতে অবস্থানকালে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের জামাল ফকিরের পুত্র লিটন ফকির (৪০) এর সঙ্গে পরিচয় হয়। ইতিমধ্যে লিটন ১০ বছর ধরে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। রিনা খাতুনের সঙ্গে অল্প দিনের পরিচয়ের ফলে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মতে গত ৫ অক্টোবর তারা ঢাকা থেকে লিটন ফকির ও তার আপন ভাই টিটু ফকির রিনা খাতুনের সঙ্গে কেশবপুর রামচন্দ্রপুর গ্রামে তার পিতার বাড়িতে আসে। শনিবার রাতে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে লিটন ফকির তার বাবা মাকে রিনা খাতুনের বাড়িতে আসার জন্য আহ্বান করে এবং তারা বিবাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাবর আলীর পুত্র রুহুল আমীন, আব্দুর রহিমের পুত্র আব্দুল মাজেদ, নূর আলী গাজীর পুত্র মফিজুর রহমানসহ আরও অজ্ঞাত ৫/৭ জন লোক রিনা খাতুনের পিত্রালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। রিনা খাতুন এসময় আরও জানান, তারা অতর্কিতভাবে তাদের বাড়ির ঘরে প্রবেশ করে তাকে বিয়ে করতে আসা লিটন ও তার ভাই টিটু ফকিরকে টেনে হেচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে বেধড়ক মারপিঠ করতে থাকে। এসময় রিনা খাতুন বাঁধা দিতে গেলে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে লিটন ফকিরের সাথে নিয়ে আসা ব্যাগ তল্লাসি করে নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ২টি এটিএম কার্ড (যে কার্ডে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আছে), ২টি স্বর্ণের আংটি, ১টি ১০ আনা ওজনের চেইন (যা লিটনের গলায় ছিলো), ২টি প্যান্ট, ৫টি শার্ট, ৩টি গেঞ্জি ও ২টি স্মার্টফোন তাদের নিকট হইতে কেড়ে নিয়ে তাদেরকে ঘরের ভিতর তালাবদ্ধ করে রাখে। রিনা খাতুন আরও জানায়, কামাল মেম্বার খুব একটা ভালো লোক নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছে। ইতিমধ্যে পাইকগাছা থেকে লিটন ফকিরের পিতা জামাল ফকির ও তার মাতা লিচু বেগম রিনা খাতুনদের বাড়ি আসে এবং তাদেরকে তালাভেঙ্গে ঘর থেকে বের করে রাতেই তাদের শুভবিবাহ সম্পন্ন করে। এব্যাপারে ইউপি সদস্য কামাল মোড়লের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, দূর্বৃত্তদের হামলা ও লুটপাটের পর খবর পেয়ে আমি রিনা খাতুনদের বাড়িতে যায় এবং লিটন ফকির ও তার ভাইয়ের সাথে আলাপ করে তার পিতা মাতাকে খবর দিয়ে তাদের শুভ বিবাহ সম্পন্ন করে দিই। অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, তারা রিনা খাতুনদের সঙ্গে আপোষ করে বিষয়টি মিটানোর চেষ্টা করছে। এদিকে হামলাকারিদের সাথে থাকা বাবর আলীর পুত্র রুহুল আমীন সাংবাদিকদের জানান, রিনা খাতুন বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে অপরিচিত লোক নিয়ে এসে অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছে। ঢাকা থেকে ২ জন ব্যাক্তি নিয়ে গত ৪/৫ দিন আগে তাদের বাড়িতে অবস্থান করায় আমরা তার প্রতিবাদ করেছি মাত্র। লুটপাটের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। রিনা খাতুনের পিতা আশরাফ আলী গাজী জানান, এলাকার দূর্বৃত্তরা মেম্বারের নের্তৃত্বে তাদের উপর হামলা করে তাদের অনেক ক্ষতি করেছে। হামলাকারিরা তাদের ভুল স্বীকার করে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে আমরা অভিযোগ করতে বাধ্য হই।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

আরও পড়ুন