আজ || মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
শিরোনাম :
  তালায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে সৈকত একাডেমি চ্যাম্পিয়ন       তালায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত       সাতক্ষীরায় সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কনসালটেশন ম্যাপিং সভা       শ্যামনগরে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের মুক্ত আলোচনা       শ্যামনগরে একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজে সুধী সমাবেশ       শ্যামনগর উপজেলা অনলাইন নিউজ ক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি মিলন, সম্পাদক বাবুল       নীতি-আদর্শের কারনে সাংবাদিকরা যে সম্মানিত হতে পারে সুভাষ চৌধুরী তার অনন্য উদাহরণ –মনজুরুল আহসান বুলবুল       সাতক্ষীরায় জেলা কৃষকলীগের তৃণমূলের মতামত কে উপেক্ষা করে কমিটি ঘোষনার প্রতিবাদে জেলা কৃষকলীগের অধিকাংশ কাউন্সিলরদের সংবাদ সম্মেলন       বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করল সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ       পদ্মপুকুরে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত    
 


কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান খাদ্যাভাব ও প্রজননের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে

মেহেদী হাসান জাহিদ, কেশবপুর :
খাদ্য সংকট, সড়ক দূঘর্টনা, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুজনিত ও অভয়ারণ্য না থাকায় নিরাপদ প্রজননে বাঁধাগ্রস্থ’র অভাবে যশোরের কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বিলুপ্ত হতে চলেছে।
কবে কোথা থেকে এই বিরল প্রজাতির হনুমান কেশবপুরে এসেছিল তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। কেউ বলেন তিন শ’ বছর আবার কেউ বলেন পাঁচ শ’ বছর আগে থেকে এই হনুমান কেশবপুরে এসে বন বাদাড়ে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতো। তবে কয়েক দশক আগে এর সংখ্যা ছিল সাত থেকে আট হাজার। বর্তমানে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সহ¯্রাধিকে। এলাকাবাসি বলছে এলাকায় অভয়ারণ্য না থাকা, চরম খাদ্যাভাব, হনুমান ধরে পাচার করা, বিদ্যুতের খোলা তারে জড়িয়ে, বিষাক্ত আমের মুকুল খেয়ে ও সড়ক দূঘর্টনায় মৃত্যুজনিত কারনে দিন দিন হনুমানের সংখ্যা কমতে থাকে। অভয়ারণ্য না থাকায় প্রজনন বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় হনুমানের বংশ বৃদ্ধিও পাচ্ছেনা।
এক সময় ফলজ বৃক্ষে ভরপুর থাকায় কেশবপুরে হনুমানের খাদ্যের অভাব ছিল না। দিন দিন এ সব বৃক্ষ উজাড় হওয়ায় দেখা দেয় হনুমানের খাদ্য সংকট। ক্ষুধার জ¦ালায় হনুমান মানুষের বাড়ি ঘরে এমনকি সরকারি অফিসে ঢুকে পড়ে। খাবারের জন্য হনুমান পথচারিদের পা জড়িয়ে ধরে। অনেক সময় দোকান থেকে কলা, বিস্কুট, পাউরুটি ও মুড়ির প্যাকেট নিয়ে দৌঁড়ে পালায়। খাদ্যের সন্ধানে বিভিন্ন সময় হনুমান মালবাহি ট্রাকে চড়ে দক্ষিণÑপশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। তা ছাড়া একটি পাচারচক্র পাকা কলার ভেতর ঘুমের টেবলেট দিয়ে হনুমানদের খেতে দেয়। ওই কলা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তারা হনুমান ধরে সার্কাস পাটি ও কোন কোন অভিজাত পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এলাকাবাসি সভা সমাবেশ মানববন্ধন করে বিরল প্রজাতির হনুমান রক্ষা ও খাদ্যের জন্য দাবি করায় সরকার সামাজিক বন বিভাগের মাধ্যমে ২০০৬ সাল থেকে পাকা কলা, বেগুন, বাদাম ও বিস্কুট দেয়া শুরু করে। কিন্তু গত বছর থেকে হনুমানের খাদ্য কমিয়ে দেয়া হয় অর্ধেকে। বর্তমানে প্রতিদিন পাকা কলা ৩৫ কেজি, বাদাম ৪ কেজি ও পাউরুটি ৪ কেজি করে খাবার দেয়া হয়। যা হনুমানের খাদ্যের চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
কেশবপুর শহরের স্থায়ী বাসিন্দা বিষ্ণুপদ জানান, কবে কোথা থেকে এই হনুমান কেশবপুরে এসেছিল তা সঠিক করে বলা যাবে না। আমার ঠাকুর দাদাও দেখে গেছেন তিনিও বলতে পারেননি এই হনুমান কবে থেকে কেশবপুরে এসে বন বাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি আরো জানান এক সময় সাত আট হাজার হনুমান ছিল বর্তমানে এ সংখ্যা হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। অপর বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান বলেন খাদ্য সংকট, সড়ক দূঘর্টনা, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুজনিত ও অভয়ারণ্য না থাকায় নিরাপদ প্রজননে বাঁধাগ্রস্থ’র অভাবে এই বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বিলুপ্ত হতে চলেছে। খাদ্যের অভাবে দিনদিন হনুমান রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।
কেশবপুর ফরেষ্টার বন বাগান কেন্দ্র র্কমর্কতা মোনায়েম হোসেন বলেন, হনুমানের খাবারের জন্য আগে যে বরাদ্দ ছিল বর্তমানে তা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন পাকা কলা ৩৫ কেজি, বাদাম ৪ কেজি ও পাউরুটি ৪ কেজি করে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
হনুমানের বংশ বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক ভিত্তিক অভয়ারণ্য গড়ে তোলা, মৃত্যুরোধে শহরসহ আশপাশ এলাকায় কভারযুক্ত বিদ্যুতের তার সংযোজন, পাচার রোধ ও প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহের দাবি করেছেন এলাকার মানুষ।


Top