আজ || বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
শিরোনাম :
  আমন মৌসুমে ব্রী ধান ৭৫ জাতের আগাম রোপণে সাফল্য পেয়েছে কৃষক রফিকুল       তালায় সামাজিক সম্প্রতি ও দুধে ভেজাল প্রতিরোধে শীর্ষক আলোচনা       সাতক্ষীরায় মাল্টি স্টেকহোল্ডার কোঅডিনেশন কমিটির ত্রৈমাসিক সভা       বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত       সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন       তালায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত       তালায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল করণে প্রশিক্ষণ       তালায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত       তালায় জুয়া খেলার সময় ৭ জুয়ারী আটক       তালায় জাতীয় মহিলা সংস্থা উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত    
 


‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’

ঈদের চাঁদ দেখার সময় আনন্দমুখর মূহুর্ত নিয়ে লেখা ও সুর করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” জনপ্রিয় গানটি আজও বেজে উঠেছিল। রাত পোহালেই প্রতিক্ষিত সেই খুশির ঈদ। “ঈদ মুবারাক”
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর । দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা। ধর্মীয় পরিভাষায় পুরস্কারের দিবস হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্য পালনসহ খুব আনন্দর সাথে পালন করে থাকে।
হিজরি বর্ষপঞ্জী অনুসারে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়। তবে এই পঞ্জিকা অনুসারে কোনও অবস্থাতে রমজান মাস ৩০ দিনের বেশি দীর্ঘ হবে না। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের প্রারম্ভ গণনা করা হয়। ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামী পরিভাষায় লাইলাতুল জায়জা (পুরস্কার রজনী) এবং চলতি ভাষায় “চাঁদ রাত” বলা হয়। শাওয়াল মাসের চাঁদ অর্থাৎ সূর্যাস্তে একফালি নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয়, এই কথা থেকেই চাঁদ রাত কথাটির উদ্ভব। ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দেয়া ইসলামী বিধান। আধুনিক কালে অনেক দেশে গাণিতিক হিসাবে ঈদের দিন নির্ধারিত হলেও আমাদের দেশে ঈদের দিন নির্ধারিত হয় দেশের কোথাও না কোথাও চাঁদ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে। দেশের কোনো স্থানে স্থানীয় ভাবে চাঁদ দেখা গেলে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে ঈদের দিন ঠিক করা হয়। ঈদের পূর্বে পুরো রমজান মাস রোজা রাখা হলেও ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম।
ঈদের দিন ভোরে স্রষ্টার ইবাদত বা উপাসনা করা হয়। ইসলামিক বিধান অনুসারে ২ রাকাত ঈদের নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে ময়দান বা বড় মসজিদে পড়া হয় (করোনা ভাইরাসরে কারনে এবার মসজিদে পড়তে হবে)। ফযরের নামাযের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের নামাযের সময় হয়। এই নামায আদায় করা জন্য ওয়াজিব। ইমাম কর্তৃক শুক্রবারে জুম্মার নামাজের পূর্বে খুৎবা প্রদানের বিধান থাকলেও ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে তা নামাজের পরে প্রদান করার নিয়ম ইসলামে রয়েছে। ইসলামের বর্ননা অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে খুৎবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত, তা শ্রবণ করা নামাযীর জন্য ওয়াজিব। সাধারণতঃ ঈদের নামাজের পরে সমবেতভাবে মুনাজাত করে থাকে এবং একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের সম্ভাষণ বিনিময় করে থাকে ( করোনা ভাইরাসরে কারনে এবার কোলাকুলি করা যাবে না )। ঈদের বিশেষ শুভেচ্ছা সূচক সম্ভাষণটি হলো, “ঈদ মুবারাক”।
বিধান অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগে একটি খেজুর কিংবা খোরমা অথবা মিষ্টান্ন খেয়ে রওনা হওয়া সওয়াবের কাজ। ঈদুল ফিতরের ব্যাপারে ইসলামী নির্দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে গোসল করা, মিসওয়াক করা, আতর-সুরমা লাগানো, এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে গমন এবং নামাজ-শেষে ভিন্ন পথে গৃহে প্রত্যাবর্তন। এছাড়া সর্বাগ্রে অযু-গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার বিধানও রয়েছে। ইসলামে নতুন পোশাক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিভিন্ন দেশে তা বহুল প্রচলিত একটি রীতিতে পরিনত হয়েছে।
রমযান মাসের রোযার ভুলত্রটির দূর করার জন্যে ঈদের দিন অভাবী বা দুঃস্থদের কাছে অর্থ প্রদান করা হয়, যেটিকে ফিৎরা বলা হয়ে থাকে। এটি প্রদান করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিৎরা আদায় করার বিধান রয়েছে। তবে ভুলক্রমে নামাজ পড়া হয়ে গেলেও ফিৎরা আদায় করার নির্দেশ ইসলামে রয়েছে। ফিৎরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দ্দিষ্ট। সাধারণত ফিৎরা নির্দিষ্ট পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সচারাচর আড়াই সের আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিৎরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। স্বীয় চাকর এর ওপর মালিক কর্তৃক ফিৎরা আদায় যোগ্য হলেও বাসার চাকর/চাকরানি অর্থাৎ কাজের লোকের ওপর ফিৎরা আদায় যোগ্য নয় বরং তাকে ফিৎরা দেয়া যেতে পারে। ইসলামে নিয়ম অনুযায়ী, যাকাত পাওয়ার যোগ্যরাই ফিৎরা লাভের যোগ্য।
ঈদের দিনে সকালে প্রথম আনুষ্ঠানিকতা হল নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া। ঈদের নামাজ শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। নামাজের পর সবাই একসাথে হওয়া, দেখা করা। এসময় ছোটরা বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে এবং সালামি গ্রহন করে। ঈদের দিনে সালামি গ্রহন করা প্রায় সব দেশেই রীতি আছে। তবে এর ধর্মিয় কোন বাধ্যবাধকতা বা রীতি নেই।
ঈদের দিনে সেমাই সবচেয়ে প্রচলিত খাবার এবং বিশেষ আরো অনেক ধরনের খাবার ধনি গরীব সকলের ঘরে তৈরী করা হয়। এ উৎসবের আরো একটি রীতি হল আশেপাশের সব বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়া এবং প্রত্যেক বাড়ীতেই হালকা কিছু খাওয়া।
মুসলিম-প্রধান দেশে ঈদুল ফিতরই হলো বৃহত্তম বাৎসরিক উৎসব। ঈদ উপলক্ষে সারা রমজান মাস ধরে কেনাকাটা চলে। অধিকাংশ পরিবারে ঈদের সময়েই নতুন পোশাক কেনা হয়। ঈদের দিন ঘরে ঘরে সাধ্যমত বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। ঈদের দিনে সেমাই বা অন্যান্য মিষ্টি নাস্তা তৈরি করার চল রয়েছে। শহর হতে ঈদের ছুটিতে প্রচুর লোক নিজেদের আদি নিবাসে বেড়াতে যায়। পত্র-পত্রিকাগুলো ঈদ উপলক্ষে ঈদ সংখ্যা নামে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। ঈদ উপলক্ষে টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।


Top