আজ || শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২
 

বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট, আহত-১০, গ্রেফতার-১০


আশাশুনির খাজরায় বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত-১,

আশাশুনি উপজেলার খাজরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের গদাইপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান গ্রুপের গদাইপুর গ্রামের মৃত সামছুর মোল্যার ছেলে সরবত আলী মোল্যা (৫৫) নিহত হয়েছে।

ঘটনায় আহত হয়েছে, উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন। বর্তমান চেয়ারম্যানের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

এদিকে, পুলিশ সেখান থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই জুলি, বাচ্চু, বাচ্চুর জামাই সাদ্দাম ও বাচ্চুর ছেলে কাইয়ুম ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীসহ ১০জন।

আহতরা হলেন, চেয়াম্যান ডালিমের ভাই গদাইপুর গ্রামের আহসান হাবিব টগর, একই গ্রামের কাজল ফকির, জাকির মোল্যা, সেলিম সরদার এবং অপর পক্ষে রব্বানী মোল্যা, সবুজ মোল্যা, লাদেন মোল্যা ও শৈবাল মন্ডলসহ উভয় পক্ষের ১০ জন।

আহতরা ঢাকা মেডিকেল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানাগেছে, শুক্রবার সকালে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই টগর মাছ বিক্রয়ের জন্য গদাইপুর মৎস্য সেটে যান। এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে গদাইপুর গ্রামের সবুজ মোল্যার নেতৃত্বে মোমিন, মফিজুল, আছাদুল, মজিদ মোল্যাসহ ৮/১০জন সংঘবদ্ধ হয়ে হাতুড়ি ও রামদা দিয়ে তাকে (টগরকে) কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে জাকির ও সেলিম এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে জখম করে এবং টগরের কাছে মাছ বিক্রয়ের নগদ টাকা ও সেলিমের মোটর সাইকেল কেড়ে নেয়। এসময় আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে টগরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে, টগর গুরুতর আহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বর্তমান চেয়ারম্যান গ্রুপের শতশত মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়।

এতে সরবত ও রব্বানীসহ কমপক্ষে ৫জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সরবত মোল্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শুক্রবার রাত ১ টার দিকে মারা যান। এদিকে, সরবতের মৃত্যুর খবরে জানার পর সাবেক চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যান ডালিমের বাড়িসহ আশেপাশের কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।


Top