আজ || সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
শিরোনাম :
 

আম্ফান মোকাবেলায় পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা


‘আম্ফান’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ‘আম্ফান’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

ফলে ঝড়ো হাওয়া আকারে এটি সর্বোচ্চ ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এটি কার্যত এখনও একই এলাকায় রয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিকেল ৩টার দিকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এটি আজ বিকাল ৩টায় (১৭ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ–দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ–দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ–দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এর আগে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) উক্ত এলাকানিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা সংকেত দেয়া হয়েছিল। তবে শনিবার (১৬ মে) এটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ঈদের আগেই উপকূলে আছড়ে পড়বে

উল্লেখ্য, এপ্রিলের শেষে ও মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া অধিদফতর। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আম্ফানের আবির্ভাব ও প্রভাব পড়েনি। তবে সেটিই এখন আবার নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

ঘুর্নিঝড় আম্পান মোকাবেলায় পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের এক প্রস্তুতি সভা রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ইউএনও জুলিয়া সুকায়নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার, রুহুল আমিন বিশ্বাস, কেএমআরিফুজ্জামান তুহিন, গাজী জুনায়েদুর রহমান, চিত্ত রঞ্জন মন্ডল, উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুল হক, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোজাফফার হোসেন, সহকারি প্রোগ্রামার মৃদুল কান্তি দাশ, একাডেমিক সুপার ভাইজার মীর নূরে আলম সিদ্দিকী, সহকারি শিÿা অফিসার ঝংকর ঢালী, মির্জা মিজানুর রহমান, আসাদুজ্জামান, একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারি জয়া রাণী রায়, সহকারি পলøী উন্নয়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ ও যুগ্ম সম্পাদক এন ইসলাম সাগর, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। সভায় ঘুর্নিঝড় আম্পান মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পÿ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। করোনার কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে সাইক্লোন সেল্টারসহ উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা, প্রধান শিÿক ও ভলেনটিয়ারদের সার্বÿনিক প্রস্তুত থাকা, গর্ভবর্তী মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধিদের আগে ভাগেই আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তর করা। মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা এবং দু’একদিনের মধ্যে এলাকার সকল ধানকাটা সম্পন্ন করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা প্রদানসহ রোববার থেকেই এলাকায় মাইকিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দূর্যোগ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় উপজেলা পরিষদের পÿ থেকে ১০ ইউনিয়নে হ্যান্ড মাইক ও পিপিই প্রদান করা হয়।


Top