আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের প্রধান বাদশা মিয়াকে নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং

গাজী জাহিদুর রহমান :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ মে, ২০২১

সাতক্ষীরার শীর্ষ প্রতারক বাদশা মিয়ার আটকের বিষয় নিয়ে পুলিশের প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ মে) বিকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উক্ত প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় সাংবাদিকদের জানান, আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের প্রধান বাদশা মিয়ার কোন বৈধ পেশা নেই। প্রতারণা করে মানুষের নিকট থেকে অর্থ আদায় করায় তার মূল ব্যবসা ও পেশা। তিনি কোন ডাক্তার না হয়েও নিজেকে ডাঃ এসএম বাদশা মিয়া, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পি.এস, প্রধানমন্ত্রীর মামলা পরিচালনাকারী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর, ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপিদের পরিচয় দিয়ে তাদের সিল, প্যাড, ডিও লেটার, বাণী ইত্যাদি ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে চাকুরী পাইয়ে দেয়া, চাকুরীতে পদোন্নতি, চাকুরীর বদলী, মামলার রায় পাইয়ে দেয়া, জমিজমা উদ্ধার ও দখল ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই মহাপ্রতারক।
এ সকল কাজের জন্য তিনি দেশী ও বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, এমপিসহ অনেকের ছবি সংগ্রহ করে তাদের ছবির সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে (এডিট করে) নিরীহ মানুষের নিকট নিজেকে বিশ^াসযোগ্য ও প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।
সরকারের প্রভাবশালী আমলা, প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট মিথ্যা পরিচয়ে তদবীর করে থাকেন এবং তদবীর না শুনলে বদলী বা চাকুরীচ্যুত করার হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরিচয় দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় কমিটি গঠন করে তাদের নিকট বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, তাকে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন জনৈক শফির মুদি দোকানের সামনে থেকে আটক করা হয়। এর পর তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ টি জাল সীল। (সিল গুলো যাদের তারা হলেন, ১. শেখ ফজলুল করিম সেলিম এম.পি, ২. এসএম বাদশা মিয়া, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ৩. ডাঃ মোস্তফা জামান, সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি)। পুলিশ প্রধানের কাছে লেখা শেখ সালাউদ্দীন জুয়েলের একটি ডিও লেটার, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের অফিসিয়াল নোট প্যাড একটি, মানবাধিকার প্রতিদিন প্রত্রিকার স্টিকার একটি, ভুয়া ওয়ারেন্ট ২৫টি, মসজিদের চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ২০টি, আদায়কৃত চাঁদার ৬৮ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন আলামত। প্রেসব্রিফিং-এ তিনি আরো জানান, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলাসহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে।


এদিকে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সম্পর্কে ফেইসবুকে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য উপস্থাপনকারী শীর্ষ প্রতারক এসএম বাদশা মিয়ার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসুুচি পালিত হয়েছে। সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতি আয়োজনে শনিবার বেলা ১১ টায় বড়বাজার ব্রিজের উপর উক্ত মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। সুলতানপুর বড়বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে মানববন্ধন বক্তব্যে রাখেন, সংগঠনটির সহ-সভাপতি আমিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবু, সাবেক সাধারন সম্পাদক রওশন আলী, যুগ সম্পাদক রজব আলী, মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক সাহেব আলী, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহ আলম, ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা খোকন প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও ব্যবসায়ী রাশিদুজ্জামান রাশি।
বক্তারা বলেন, রিজেন্ট শাহেদের মত সাতক্ষীরার আরেক শীর্ষ প্রতারক এই বাদশা মিয়া। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নকল নোট প্যাড, সীল, সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ও বিভিন্ন প্রকার নিয়োগ পত্র এবং জমাজমি সংক্রান্ত কাগজ-পত্র জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সে নিজেকে কখনও ডাক্তার, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এলজিআরডি মন্রণালয়ের ডিরেক্টর পরিচয় দিতেন। আবার কখনও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষকে টাকার বিনিময়ে চাকরিত পদোন্নতি, চাকুরী পাইয়ে দেওয়া, এমন কি যে কোন মামলার সুরাহা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা এ সময় এই শীর্ষ প্রতারকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জোর দাবী জানান।
উল্লেখ্য, শনিবার (১ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক এলাকার জনৈক শফিকুল ইসলামের মুদি দোকানের পাশ থেকে এসএম বাদশা মিয়া নামের এক প্রতারককে আটক করে পুলিশ। এসময় তার দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে দোকানের ভিতর থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। আটক বাদশা মিয়া সাতক্ষীরা পলাশপোল এলাকার অর্শ ও পাইলসের হাতুড়ে ডাক্তার নূর ইসলামের ছেলে। সে নিজেকে কখনও ডাক্তার কখনও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর পরিচয় দিতেন। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কখনও বা কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষকে টাকার বিনিময়ে চাকরিতে পদোন্নতি, চাকুরী পাইয়ে দেওয়া এমন কি যে কোন মামলার সুরাহা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন