আজ || শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২
 


আজ কবি গুরু রবী ঠাকুরের ১৫৯তম জন্ম জয়ন্তী

আজ ২৫ শে বৈশাখ। বাংলা সাহিত্যের ধারক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী আজ (শুক্রবার)। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সারদা দেবীর চতুর্দশ সন্তান তিনি।

১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করেন। বাংলা সাহিত্যের এই প্রাণপুরুষ সমাজকল্যাণমূলক কাজেও রেখেছেন বিশেষ ভূমিকা। শিক্ষাবিস্তার, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নসহ তার জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি বাঙালি জাতির দিকনির্দেশক এক আলোকবর্তিকা। বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছুর সঙ্গেই একটু একটু করে মিশে আছে রবীন্দ্রনাথ! গত দেড় শতাব্দী ধরে বাঙালির মানসপটে তার দাপুটে অবস্থান। তাকে বাদ দিয়ে বাঙালির চিন্তার ভূগোল, ভাবের প্রকাশ, রস আস্বাদন— কোনও কিছুই সম্ভব না।

বাঙালি সত্তায় রবীন্দ্রনাথ সদা জাগ্রত। বাঙালি জীবনে যত ভাব-বৈচিত্র্যের সমারোহ তার পুরোটাই তিনি তুলে ধরেছেন তার গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গান, স্মৃতিকথা এবং দর্শনে। তাকে পুরোপুরি ধারণ করা ছাড়া সত্যিকার অর্থে বাঙালি হয়ে ওঠা সম্ভব না। তার সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা— সব কিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। সার্ধশতবার্ষিকী পেরোনোর পরও রবীন্দ্রনাথ তাই বাঙালির জন্য অপরিহার্য। তিনি কেবল বাঙালির আনন্দ-বেদনা, উৎসব-অভিলাষে প্রতি মুহূর্তের অনুসঙ্গীই নন- সংকটের সাহস, প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রেরণাও। এ জন্যই তার জন্মদিন শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছেই এক আনন্দঘন উৎসবের দিন।

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণনিরোধে বিভিন্ন উৎসব জনসমাগম এড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছে। এ অনুষ্ঠানই দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠান।


Top