আজ || সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
শিরোনাম :
 


অনুরোধ করছি যে যেখানে আছেন সেখানে থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের জনগণকে যার যার অবস্থানে থাকতে ফের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনের ভাষণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষ থেকে মানুষের দূরত্ব মেনে চলা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, মানুষ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে না। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শিবচর থেকে জাহাজে টুঙ্গিপাড়া চলে আসছেন। এতে করোনা টুঙ্গিপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক দূর বরগুনায় চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনো মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। মুখের মাধ্যমে তা ছড়ায়। সে জন্য সবাইকে দূরত্ব মেনে চলতে হবে। কিন্তু কেউ দূরত্ব মেনে চলতে চায় না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক কষ্ট করছে। তারপরও এখানে-সেখানে জমায়াতে, আড্ডার ঘটনা ঘটছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৫০ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আরো ৫০ লাখ কার্ড করার জন্য প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। যাতে করে এক কোটি কার্ডধারীর মাধ্যমে পাঁচ কোটি মানুষ এই সুবিধা ভোগ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রায় ২০৯টি দেশ আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। গত ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। যখনি আমাদের দেশে দেখা দেয় তখননি আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কতদিন এই অবস্থা থাকবে তা কেউ বলতে পারছে না। সারা বিশ্বে কত শক্তিশালী দেশ, কত অস্ত্র কোনো কিছুই কাজে লাগলো না। একটা ভাইরাস চোখে দেখা যায় না। তার কারণে আজ সারা বিশ্ব স্থবির, সারা বিশ্বের মানুষ আজ ঘরে বন্দি। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

এ সময় তিনি আরো জানান, করোনা মোকাবেলা করতে দেশে পিপিই ও সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব নেই।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ৫০ কোটি নগদ টাকা এবং ৯০ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য সহায়তা দিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছর পর্যন্ত অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় স্বাস্থ্য সচেতনতার নির্দেশনা মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতিতে এই অধিবেশন হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সংসদ সদস্যরাও করোনাভাইরাসের সতর্কতা নির্দেশনা মেনেই সংসদ অধিবেশনে অংশ নিবেন বলেও জানানো হয় এতে।

একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিলো গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি। ১৮ই এপ্রিলের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে, গত ২২শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠানের কথা ছিলো। করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই অধিবেশন স্থগিত করা হয়।


Top